সাদিক ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য হলো শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করা। সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষাগত উন্নয়নের সুযোগ প্রসারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
কাজী শিবলী সাদিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষাগত উন্নয়নের সুযোগ প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। স্কুল ও লাইব্রেরি পরিচালনার মাধ্যমে সাদিক ফাউন্ডেশন শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে, জ্ঞানার্জনের বাধা অপসারণ করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফাউন্ডেশনটি দুটি মূল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও অর্থায়ন করে থাকে।
প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই স্কুলটি একটি সহায়ক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ প্রদান করে। এখানে অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও চিন্তাশক্তির বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হতে পারে।
গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা এই লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রচুর বই, শিক্ষামূলক উপকরণ এবং পড়াশোনার জন্য শান্ত পরিবেশ। শিক্ষার্থী, গবেষক এবং স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য উন্মুক্ত এই লাইব্ররিটি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
শিক্ষা, দয়া এবং আজীবন সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
জোহরা বেগম (১৯৫২–২০২৬)-এর জীবন শিক্ষা এবং মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ছিল। তাঁর অসাধারণ দয়া, সহযোগিতামূলক মনোভাব এবং নম্র চরিত্রের জন্য তিনি সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি দশকের পর দশক ধরে মানুষের জীবনকে আলোকিত করেছেন—প্রথমত একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে শ্রেণীকক্ষে তরুণ মনের বিকাশ ঘটিয়েছেন, এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হিসেবে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।
জোহরা বেগমের কাছে শিক্ষা কেবল একটি পেশা ছিল না; এটি ছিল এক মহান সেবা। একজন অভাবী শিক্ষার্থীকে পরামর্শ দেওয়াই হোক বা পাঠাগারের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া—তিনি সর্বদা দিকনির্দেশনা, ধৈর্য এবং সহানুভূতির শক্তিতে বিশ্বাস করতেন।
২০২৬ সালে তাঁর প্রয়াণের পর, তাঁর সুযোগ্য সন্তান কাজী শিবলী সাদিক তাঁর এই মহান স্মৃতি ও আদর্শকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এই সামাজিক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। জোহরা বেগমের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং আজীবনের অর্জিত অর্থ দিয়েই এই ফাউন্ডেশনটি গড়ে তোলা হয়েছে, যা তাঁর জীবন ও মূল্যবোধের এক চিরন্তন প্রতীক।
"যে নীতিগুলো জোহরা বেগমকে প্রতিদিন অনুপ্রাণিত করত, সেগুলোই আজ আমাদের এই ফাউন্ডেশনের মূল চালিকাশক্তি: জ্ঞানের আলো দিয়েই প্রকৃত উন্নতির সূচনা হয়, পারস্পরিক দয়া ও সহানুভূতি থেকেই সমাজ শক্তিশালী হয়, এবং মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে মহৎ সিদ্ধান্ত। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের মাধ্যমে শিক্ষার সব বাধা দূর করতে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করে তুলতে তাঁর এই মানবিক প্রচেষ্টা অবিরত থাকবে।"
আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও জানতে বা যুক্ত হতে যোগাযোগ করুন।
130 Matikata,
Dhaka Cantonment,
Dhaka - 1206
01979355145